৪.১ বাংলা শব্দগঠন (উপসর্গ)

সুহাস 
আদর নিবি। তুই আমাদের অজ পাড়া গাঁয়ের আশা ভরসা। অনাচারীদের অকথা কুকথায় কান দিবি না। তোর জন্য আবডালে থেকে ঊনত্রিশটি পাতিলেবু ও কদবেল পাঠালাম। আড়চোখে চেয়ে আনমনে খেয়ে নিস।
ইতি
অঘা রাম।

এবার মিলিয়ে নেওয়া যাক:
 
সুহাস:  সু =  সুকন্ঠ, সুপ্রিয়।
          হা = হাপিত্যেশ, হাভাতে। 
          স = সরব, সঠিক।
আদর   : আ = আধোয়া, আলুনি।
নিবি   : নি = নিবারণ, নির্ণয়।
          বি = বিধৃত, বিশুদ্ধ।
অজ : অজ = অজমূর্খ, অজপুকুর।
ভরসা  : ভর = ভরপেট, ভরদুপুর।
          সা = সাজিরা, সাজোয়ান।
অনাচারীদের: অনা = অনাবৃষ্টি, অনাদর।

অকথা       : অ = অথৈ, অচিন।
কুকথা       : কু = কুঅভ্যাস, কুনজর।
আবডালের  : আব = আবছায়া, আবডাল। 
ঊনত্রিশটি   : ঊন = ঊনপাঁজুরে, উনিশ।
পাতিলেবু    : পাতি = পাতিহাঁস, পাতকুয়ো।
কদবেল      : কদ্ = কদর্য, কদাকার।
আড়চোখে   : আড় = আড়কাঠি, আড়নয়নে।
আনমনে     : আন = আনকোরা, আনচান।
ইতি          : ইতি = ইতিকথা, ইতিহাস।
অঘারাম     : অঘা = অঘাচণ্ডী, অঘারাম।
          রাম = রামছাগল, রামদা। 

 বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসেছে। সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন-সম্প্রসারণ করেছে। সংস্কৃত উপসর্গ সাধারণত সংস্কৃত ধাতু ও শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়। সংস্কৃত উপসর্গ মোট ২০টি। যেমন:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু,অব, নির, দুর, অতি
বি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অপি, অভি, উপ, অধি, আ।

প্রতাপ 
অপমানের সম্মুখীন এবং আরক্ত না হয়ে নির্ভয়ে এগিয়ে যাও। অনু ও অভি অবজ্ঞা করলেও দুর্গম পথ পাড়ি দাও। নিষ্কলুষ ও বিশুদ্ধ মনে সুচেতনায় অস্ত্র উৎক্ষেপণ করো। প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে অধিকার পরিপূর্ণ উপভোগ করো। অতি ভাল থেকো। 
অপি

এবার মিলিয়ে নেওয়া যাক:
 
প্রতাপ       : প্র = প্রতাপ, প্রবল।
অপমান            : অপ = অপমান, অপযশ।
সম্মুখীন       : স = সম্মুখীন, সম্পূর্ণ।
আরক্ত : আ = আরক্ত, আকণ্ঠ।
নির্ভয়ে     : নির = নির্ভয়, নিরক্ষর।
অনু                : অনু = অনুজ, অনুকরণ।
অভি           : অভি = অভিযান, অভিব্যক্তি।
অবজ্ঞা     : অব = অবজ্ঞা, অবরোধ।  
দুর্গম             : দুর = দুর্গম, দুরতিক্রম্য।
নিষ্কলুষ : নি = নিষ্কলুষ, নিদাঘ।
বিশুদ্ধ             : বি = বিশুদ্ধ, বিজ্ঞান।
সুচেতনা       : সু = সুচেতনা, সুকণ্ঠ।
উৎক্ষেপণ      : উৎ = উৎক্ষেপণ, উন্নত। 
প্রতিপক্ষ     : প্রতি = প্রতিপক্ষ, প্রতিবাদ।
পরাজিত          : পরা = পরাজিত, পরাজয়।
অধিকার : অধি = অধিকার, অধিবাসী।
পরিপূর্ণ     : পরি = পরিপূর্ণ, পরিশেষ।
উপভোগ            : উপ = উপভোগ, উপকূল।
অতি             : অতি= অতিশয়, অতিমানব। 
অপি                : অপি = অপিনিহিতি, অপিধান।

দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংমিশ্রণের ফলে কয়েকটি বিদেশি ভাষার শব্দের পাশাপাশি বেশ কিছু বিদেশি  উপসর্গও বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এগুলো বাংলার সাথে এতটাই মিশে গেছে যে, তাদেরকে আলাদা করে শনাক্ত করা এখন   রীতিমতো দুরূহ কাজ। মূলত আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বিদেশি উপসর্গ। যেমন:

আরবি: লা, খয়ের, বাজে, আম

গর, খাস- আরবি উপসর্গ। 

আম খাসনা বাজেগর, খয়ের খেয়ে ঠোঁট লাল কর।

এবার মিলিয়ে নেওয়া যাক:
লা : লাজওয়াব, লাখেরাজ।
খয়ের : খয়ের খাঁ।
বাজে : বাজেকথা, বাজেকাজ।
আম : আমদরবার, আমমোক্তার।
গর : গরমিল, গরহাজির।
খাস : খাসমহল, খাসখবর।

“রাজার খাসমহলে খয়েরখাঁদের বাজেকাজ আমজনতা পছন্দ করে না। তাই ভয়ে তারা এখন গরহাজির থাকে, অনেকে লাপাত্তা।”

_

_