বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কবি- পরিচিতি:
প্রকৃত নাম : মধুসূদন দত্ত ।
ছদ্মনাম : টিমোথি পেন পোয়েম ।
পিতৃ প্রদত্ত নাম : শ্রী মধুসূদন দত্ত ।
জন্ম : ২৫শে জানুয়ারি ১৮২৪ সালে ।
জন্মস্থান : যশোর জেলার কপোতাক্ষনদ বিধৌত সাগরদাঁড়ি গ্রামে ।
পিতার নাম : রাজ নারায়ণ দত্ত । তিনি সম্ভ্রান্ত জমিদার ছিলেন ।
মাতার নাম : জাহ্নবী দেবী ।
পিতামহের নাম : রামকিশোর দত্ত ।
শিক্ষাজীবন : কলকাতার লালবাজার গ্রামার স্কুল, হিন্দু কলেজ, হিন্দু কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর বিশপ্স কলেজে ভর্তি হন এবং পরে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেতে গমন করেন ।
কর্মজীবন : প্রথম জীবনে আইন পেশায় জড়িত হলেও লেখালেখি করে পরবর্তীকালে জীবিকা নির্বাহ করেন ।
ভাষা জ্ঞান : গ্রিক, ল্যাটিন, হিব্রু, ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়সহ ১৩/১৪টি ভাষা ।
খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন : ১৮৪৩ সালে, তখন থেকেই নামের আগে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয় ।
মধুসূদনের ভুল : প্রথম জীবনে মাতৃভাষা ও সাহিত্যকে অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করা ।
চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রেখে ।
মৃত্যু : ২৯শে জুন ১৮৭৩ সালে, কলকাতায় ।
সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ : তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০), মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১), ব্রজাঙ্গনা (১৮৬১), বীরাঙ্গনা (পত্রকাব্য ১৮৬২), চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৬)।
ছন্দে ছন্দে কাব্যগ্রন্থ :
ছন্দে ছন্দে কাব্যগ্রন্থ: মেঘনাদ বিব্রত হয়ে চতুর্দশপদী কবিতা লেখে।
বি-বীরঙ্গনা কাব্য;
ব্র- ব্রজাঙ্গনা কাব্য;
ত-তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য;
চতুর্দশী-চতুর্দশপদী কবিতাবলি।
ইংরেজি কাব্য : Captive Ladie (1849), Vision of the Past.
নাটক : শর্মিষ্ঠা (১৮৫৮), পদ্মাবতী (১৮৬০), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১), মায়াকানন (১৮৭৩) অসমাপ্ত, সর্বশেষ, মৃত্যুর পরে প্রকাশিত।
ছন্দে ছন্দে মাইকেলের নাটক : শর্মিষ্ঠা কৃষ্ণকুমারী বয়সে পদ্মাবতী নদী পাড়ি দিয়ে প্রেয়সীর মায়াকাননে পৌঁছাল।
প্রহসন : একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৫৯), বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৫৯)।
ছন্দে ছন্দে মাইকেলের প্রহসন : একেই বলে বুড় শালিক।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য-মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)।
• প্রথম সার্থক নাটক- শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯)।
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক-কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) ।
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক পত্রকাব্য- বীরাঙ্গনা।
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম অমিত্রাক্ষরে প্রথম প্রয়োগ- পদ্মাবতী (১৮৬১) ।
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম অমিত্রাক্ষরের সার্থক প্রয়োগ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬১) ।
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক সনেট রচয়িতা- মধুসূদন দত্ত।
• আধুনিক বাংলা কবিতার জনক- মধুসূদন দত্ত।
• আধুনিক বাংলা নাটকের জনক- মধুসূদন দত্ত।
উৎস পরিচিতি :
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ’- কাব্যের ‘বধো (বধ) নামক ষষ্ঠ সর্গ থেকে সংকলিত হয়েছে।
ছন্দ : ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশটি ১৪ মাত্রার অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রথম পঙ্ক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় পঙ্ক্তির চরণান্তের মিলহীনতার কারণে এ ছন্দ ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ নামে সমাধিক পরিচিত। এ কাব্যাংশের প্রতিটি পঙ্ক্তির ১৪ মাত্রায় এবং ৮ + ৬ মাত্রার দুটি পর্বে বিন্যস্ত। লক্ষ করার বিষয় যে, এখানে দুই পঙ্ক্তির চরণান্তিক মিলই কেবল পরিহার করা হয়নি, যতিপাত বা বিরামচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহারও হয়েছে বিষয় বা বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গে। এ কারণে ভাবপ্রকাশের প্রবহমানতাও কাব্যাংশটির ছন্দের বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য।
মূলভাব: কবিতাংশে কবির মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে ঘৃণা।
“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে- 🔒ব্যাখ্যা
”জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! 🔒ব্যাখ্যা হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, 🔒ব্যাখ্যা নিকষা সতী তোমার জননী,
সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী! 🔒ব্যাখ্যা
নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে? 🔒ব্যাখ্যা
চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে? 🔒ব্যাখ্যা
কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরু জন তুমি 🔒ব্যাখ্যা
পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,
পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে, 🔒ব্যাখ্যা
লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।” 🔒ব্যাখ্যা
উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,
ধীমান্! রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে
তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে
অনুরোধ?" 🔒ব্যাখ্যা উত্তরিলা কাতরে রাবণি;-
“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে! 🔒ব্যাখ্যা
রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
আনিলে এ কথা, 🔒ব্যাখ্যা তাত, কহ তা দাসেরে!
স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে; 🔒ব্যাখ্যা
পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি
ধূলায়? 🔒ব্যাখ্যা হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে
কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে? 🔒ব্যাখ্যা
কে বা সে অধম রাম? স্বাচ্ছ সরোবরে
করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে;
যায় কি সে কভু, প্রভু, পঙ্কিল সলিলে, 🔒ব্যাখ্যা
শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী,
কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালেমিত্রভাবে?🔒ব্যাখ্যা
অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,
অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে।
ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে
অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে? 🔒ব্যাখ্যা
কহ, মহারথী, এ কি?
নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে
এ কথা! 🔒ব্যাখ্যা ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া
এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,
বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি! 🔒ব্যাখ্যা
দেব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছ,
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! কী দেখি
ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে? 🔒ব্যাখ্যা
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগল্ভে পশিল
দম্ভী; 🔒ব্যাখ্যা আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে 🔒ব্যাখ্যা
তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে
বনবাসী! 🔒ব্যাখ্যা হে বিধাতঃ, নন্দন-কাননে
ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? 🔒ব্যাখ্যা প্রফুল্ল কমলে
কীটবাস? 🔒ব্যাখ্যা কহ তাত, সহিব কেমনে।
হেন অপমান আমি,- ভ্রাতৃ-পুত্র তব?
তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?” 🔒ব্যাখ্যা
মহামন্ত্র-বলে যথা নম্রশিরঃ ফণী,
মলিনবদন লাজে, 🔒ব্যাখ্যা উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;
“নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে 🔒ব্যাখ্যা
তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা
এ কনক-লঙ্কা রাজা, মজিলা আপনি! 🔒ব্যাখ্যা
বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি
বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে! 🔒ব্যাখ্যা
রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী।
তেঁই আমি। পরদোষে কে চাহে মজিতে?” 🔒ব্যাখ্যা
রুষিলা বাসবত্রাস। গম্ভীরে যেমতি
নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি, 🔒ব্যাখ্যা
কহিলা বীরেন্দ্র বলী,-“ধর্মপথগামী,
হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে
তুমি; — কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,
জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,-এ সকলে দিলা
জলাঞ্জলি? 🔒ব্যাখ্যা শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি
পরজন, গুণহীন স্বজন, 🔒ব্যাখ্যা তথাপি
নির্গণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!
এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে?
কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,
হে পিতব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে? 🔒ব্যাখ্যা
গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।”
১) “হায় তাত! উচিত কি তব এ কাজ?”-মেঘনাদের এই উক্তির মধ্য দিয়ে বিভীষণের কোন কাজটি পছন্দ হয়নি? [ঢা.বো.১৯]
২) ‘নিকষা’ কার মা? [চ.বো.১৭]
৩) ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ‘তষ্কর’ বলা হয়েছে- [ব.বো.১৭]
৪) ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় বাসকবিজয়ী’- [কু.বো. ১৬]
৫) ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ‘রক্ষোরথি’ কে? [সি.বো.১৬]
১) শমন -ভবন কী?
২) ‘হায় তাত উচিত কি তব এ কাজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
৩) মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউল একটি সফল অপারেশনের পর তারাপুর গ্রামে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পার্শ্ববর্তী গ্রামের রাজাকার ইদ্রিস তথ্যটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে জানিয়ে দিল। হানাদার বাহিনী এসে কমান্ডার মতিউলকে মেরে ফেলে। মতিউল প্রতিরোধের সুযোগ পযন্ত পেল না।
৪) উক্ত চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ চরণগুলো-
৫) আধুনিক বাংলা কবিতার অগ্রদূত কে?
ক) উত্তর: লক্ষ্মণ। সুমিত্রার গর্ভজাত সন্তান বলে লক্ষ্মণের অপর নাম সৌমিত্রি। |
খ) উত্তর “লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে”-বলতে শত্রু লক্ষ্মণ যুদ্ধে পরাস্ত করে লঙ্কার কলঙ্ক মোচনের কথা বোঝানো হয়েছে। লক্ষ্মণ ও লক্ষ্মণের আচরণকেই মেঘনাদ লঙ্কার কলঙ্ক বলতে চেয়েছেন, কারণ তস্কর বা চোরের মতো লক্ষণ গোপনে সুরক্ষিত লঙ্কাপুরীর নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করে নিরস্ত মেঘনাদকে যুদ্ধে আহ্বান করে। এটা লঙ্কার কলঙ্ক। কিন্তু মেঘনাদ যে বীর! তাই তিনি লক্ষ্মণের কাছে যুদ্ধসাজ প্রার্থনা করেন। তখন লক্ষ্মণ রাজি হয় না বরং কাপুষের মতো নিরস্ত্র মেঘনাদকে হত্যা করতে কোষ হতে তরবারি উন্মুক্ত করে। মেঘনাদ তথা লঙ্কার সে অপরাজেয় গৌরবের ঐতিহ্য আছে তাতে কালিমা লেপন করতে এসেছে লক্ষ্মণ। তাই সে রামের অনুজ লক্ষ্মনকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে চায়। তার সাথে যুদ্ধ করে, তাকে পরাজিত করে লঙ্কার সমস্ত কলঙ্ক কালিমা মুছে দিতে চায়। |
গ) উত্তর: উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় প্রতিফলিত জন্মভূমির প্রতি মেঘনাদের গভীর অনুরাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। জন্মভূমি প্রত্যেক মানুষের কাছেই পরম শ্রদ্ধার বস্তু। স্বদেশের মাটি, পানি, আলো-বাতাসেই মানুষ বেড়ে ওঠে। স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ছুটে বেড়ায় নানা দিকে। দিন শেষে পাখি যেমন ফিরে আসে তার শান্তির নীড়ে মানুষও তেমনি নানা দেশ ঘুরে স্বদেশের মাটিতেই শেষ আশ্রয় নিতে চায়। উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি মানুষের অনুরাগ ও ভালোবাসার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের জীবনের মহত্তম কাজের মধ্যে স্বদেশ অন্যতম একটি। মানব-কল্যাণের মূলেও স্বদেশের প্রতি গভীর মনোযোগ ও ভালোবাসাকেই নির্দেশ করা হয়। উদ্দীপকের লেখকের স্বদেশপ্রেমের বর্ণনা আলোচ্য ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় প্রতিফলিত, স্বদেশের প্রতি মেঘনাদ-এর অনুরাগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মেঘনাদ সেখানে রামানুজ লক্ষ্মণকে হত্যা করে স্বর্ণলঙ্কার কলঙ্ক ও কালিমা মোচন করতে চেয়েছেন। |
ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের মূলভাব এবং ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় প্রতিফলিত মেঘনাদের মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা একসূত্রে গাঁথা।-মন্তব্যটি যথার্থ। একজন মানুষের জীবনে তার মা যেমন পরিচিত, তেমনি স্বদেশও পরিচিত। মানুষের সাথে সন্তানের যেরূপ হৃদ্যতা গড়ে ওঠে, দেশের সাথেও তার অনুরূপ হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। একজন মানুষের সামগ্রিক জীবনের বিকাশে তার স্বদেশ প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুস্থ চিন্তা-চেতনাসম্পন্ন প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই স্বদেশপ্রীতি রয়েছে। উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি মানুষের অনুরাগ প্রসঙ্গে যে বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে তাতে স্বদেশানুরাগের গভীর চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে। একজন দেশপ্রেমিক কীভাবে তার দেশের জন্য আত্মত্যাগ করতে পারেন তা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের এই বক্তব্যের চেতনা আলোচ্য ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় প্রতিফলিত মেঘনাদের স্বদেশ চেতনার সাথে অভিন্ন ধারায় প্রবাহিত। মেঘনাদ অসীম সাহসী বীর। তিনি তাঁর প্রিয় ভূমিকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। স্বর্ণলঙ্কাকে শত্রু কালো থাবার ছায়া থেকে মুক্ত করতে চেয়েছেন। এখানে মেঘনাদ তার আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রিয় জন্মভূমিকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখেছেন। এভাবে উদ্দীপকটির মূলভাব আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত মেঘনাদের স্বদেশ প্রীতির সাথে একসূত্রে গাঁথা। |
ক) রাবণের পুত্র মেঘনাদকে রাবণি বলা হয়েছে। |
খ) ‘প্রফুল্ল কমলে কীটবাস’ বলতে প্রফুল্ল কমলসম লঙ্কাপুরীতে কীটসম লক্ষণের অবস্থান করাকে বোঝানো হয়েছে। মেঘনাদ যুদ্ধযাত্রার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা সম্পন্ন করার জন্য উপস্থিত হয়। সেখানে মায়াদেবীর আনুক‚ল্যে এবং বিভীষণের সহায়তায় লক্ষণ প্রবেশ করে নিরস্ত্র মেঘনাদকে যুদ্ধে আহ্বান করে। মেঘনাদ তখন পিতৃব্য বিভীষণকে নানাভাবে বুঝিয়ে অস্ত্রাগারে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে। কিন্তু বিভীষণ দ্বার ছাড়ে না। সে নিজেকে রাঘবের দাস হিসেবে পরিচয় দেয়। তখন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে মেঘনাদ লঙ্কাকে মনোরম সাজানো বাগান আর লক্ষণকে কীটরূপে অভিহিত করে। |
গ) উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে মহৎ করে, মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগে উৎসাহিত করে। স্বদেশের স্বার্থে একজন দেশপ্রেমিক প্রাণবিসর্জন দিতেও কুণ্ঠিত হয় না। আর যারা স্বদেশকে ভালোবাসে না তারা বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী। উদ্দীপকে পলাশির প্রান্তরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য অস্তমিত হওয়ার মূল ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মির জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং মোহনলাল-মির মদনের স্বাদেশপ্রেমের বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে মির জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় প্রতিফলিত বিভীষণের বিশ্বাঘাতকতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার কারণেই মেঘনাদকে নিরস্ত্র অবস্থায় হত্যা করতে উদ্যত হয় রামানুজ লক্ষণ । অস্ত্রাগারে প্রবেশ করে যুদ্ধের সাজ গ্রহণের জন্য অনুমতি প্রার্থনা সত্তে¡ও বিভীষণ তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। বিভীষণ জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, সবকিছুই জলাঞ্জলি দিয়েছে। |
ঘ) “উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ। যুগে যুগে দেশে দেশে যেমন বিশ্বাসঘাতকের জন্ম হয়েছে, তেমনই দেশপ্রেমিক বিশ্বাসী মানুষেরও জন্ম হয়েছে। বিশ্বাসঘাতকরা বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে হীন কাজে লিপ্ত হয়েছে। তবুও দেশপ্রেমিক মানুষ তাদেরকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে গেছে। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটিতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা, লক্ষণের নির্মমতা এবং মেঘনাদের স্বদেশপ্রেম তুলে ধরেছেন। স্বর্ণলঙ্কাপুরীকে রামচন্দ্রের হাত থেকে বাঁচাতে এবং যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ মনস্থির করে। মায়াদেবীর মায়াবলে এবং বিভীষণের সহায়তায় রামানুজ লক্ষ্মণ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে উপস্থিত হয়। বিভীষণ নিরস্ত্র মেঘনাদকে অস্ত্রাগারে যেতে বাধা দেয়। অন্যদিকে উদ্দীপকে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে। যেখানে প্রধান সেনাপতি মির জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ ও জগৎ শেঠদের অসহযোগিতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে মির জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে মেঘনাদের বীরত্ব, ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতা, স্বদেশপ্রেম ও স্বজাতির প্রতি মমত্ববোধ। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আংশিক ভাব রূপায়িত হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় আসা বিগত বছরের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর |
ক) রাবণের মধ্যম সহোদর হলেন- কুম্ভকর্ণ। |
খ) “তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!”- এখানে বিভীষণের আচরণ ও কথায় দেশপ্রেমিক মেঘনাদের মরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে। “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতার মেঘনাদ একজন দেশপ্রেমিক। অন্যদিকে বিভীষণ স্বজাতি ও স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধর্মরক্ষার লক্ষ্যে ল²ণকে সহায়তা করে। বিভীষণ রাবণের ভাই হওয়া সত্তেও সে ভ্রাতৃত্ব, জাতিত্ব ভুলে শত্রুপক্ষ ল²ণকে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে আসে। লক্ষ্মণ যখন নিরস্ত্র মেঘনাদকে আঘাত করতে চায় তখন সে অস্ত্রাগারের দ্বার আগলে দাঁড়িয়ে থাকে। মেঘনাদের বারবার অনুরোধ সত্তে¡ও তাকে অস্ত্রাগারে প্রবেশ করতে দেয় না। বিভীষণ বলে-সে ‘রাঘবদাস’, তাঁর বিরুদ্ধে সে কিছুতেই যেতে পারবে না। এই কথা শুনে মেঘনাদ আলোচ্য উক্তিটি করে। |
গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সোহেলের সঙ্গে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার বিভীষণ চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। আত্মস্বার্থ চরিতার্থের জন্য মানুষ প্রিয়জনবিমুখ হয়। লোভ-লালসার শিকার হয়ে নিজের জাত-বংশ ও রক্তের সঙ্গেও মানুষ বিরোধিতা করে। একে অন্যের বিশ্বাস ভঙ্গ করে বিশ্বাসঘাতক হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে সোহেল ব্যক্তিস্বার্থে নিজের গ্রামের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। উদ্দীপকের সোহেলের শুধু প্রেমের টানে পরিবার, সমাজ ও এলাকার স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার এই বিষয়টি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ । বিভীষণ ধর্মরক্ষার লক্ষ্যে নিজের বংশ, পরিবার, সমাজ ও স্বদেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সে মেঘনাদের পিতৃব্য হয়েও তাকে হত্যা করার জন্য শত্রু লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে এসেছে। সুতরাং বলা যায়, জন্য স্বদেশ ও আত্মীয়দের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে উভয় চরিত্রের মিল রয়েছে। |
ঘ) “উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে এলাকার জন্য যে মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় তা ব্যাপকতা লাভ করেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ। স্বদেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত নিজের দেশকে ভালোবাসা, দেশের উন্নতির জন্য কাজ করা। দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকই তা করে থাকেন। কিন্তু স্বার্থপর ব্যক্তিরা তা করে না। উদ্দীপকে ব্যক্তিস্বার্থে নিজের পরিবার, সমাজ ও গ্রামের সঙ্গে সোহেলের বিশ্বাসঘাতকতা এবং তার বয়সী আরিফের এলাকাপ্রীতির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে ‘মাহমুদপুর' এবং পার্শ্ববর্তী কাশিপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম হলে আরিফ তার গ্রামের পক্ষে কাজ করে। সে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, লাঠিসোঁটা জোগাড় করে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিজের গ্রামের সম্মান রক্ষায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এই বিষয়টি বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মেঘনাদ চরিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত । এখানে নিজ গ্রামবাসীর প্রতি ভালোবাসার দিক থেকে আরিফ মেঘনাদ চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ। বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদ স্বদেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। উদ্দীপকেও আরিফ নিজের- গ্রামবাসীকে সংগঠিত ও প্রস্তুত করে গ্রামের সম্মান রক্ষার আয়োজন করে মেঘনাদের মতো স্বদেশানুরাগের পরিচয় দিয়েছে। তার সেই প্রস্তুতির পরিণতি এখানে উল্লেখ না থাকলেও অনুমান করা যায় যে, সর্বশক্তি নিয়ে কাশিপুরবাসীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছো এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। |
ক) সুমিত্রার গর্ভজাত সন্তান বলে লক্ষণের আপর নাম সৌমিত্রি। |
খ) নিজের জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব এবং স্বজাতির প্রতি কর্তব্য জলাঞ্জলি দিয়ে বিভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা করে রামানুজ লক্ষ্মণকে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যাওয়ায় মেঘনাদ তাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল। লঙ্কাপুরীকে রামচন্দ্রের হাত থেকে বাঁচাতে এবং যুদ্ধজয় নিশ্চিত করতে মেঘনাদ সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে মেঘনাদ নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ইষ্টদেবতা অগ্নিদেবের পূজা করতে যায়। লক্ষ্মণকে সেখানে প্রবেশ করতে বিভীষণ সহায়তা করে। তার এমন বিশ্বাসঘাতক আচরণে মেঘনাদ ব্যথিত হয়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে শত্রুকে পথ চিনিয়ে ঘরে নিয়ে আসা উচিত হয়েছে কি-না মেঘনাদ তা তার পিতৃব্য বিভীষণের কাছে জানতে চেয়েছে । |
গ) উদ্দীপকের মিরজাফর বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। স্বদেশপ্রেম একটি মহৎ গুণ। মানুষ স্বভাবতই নিজের দেশকে ভালোবাসে। তবে এমন কিছু আত্মকেন্দ্রিক মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বার্থে শত্রুর পক্ষ নিয়ে স্বজাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে । উদ্দীপকে দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক মিরজাফরের কথা বলা হয়েছে। মিরজাফর ইংরেজদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধ না করে হাজার হাজার সেনা নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় রামচন্দ্র কর্তৃক স্বর্ণপুরী লঙ্কা আক্রান্ত হলে বিভীষণ ভাই রাবণের পক্ষ ছেড়ে রামচন্দ্রের সঙ্গে যোগ দিয়েছে স্বদেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে রাবণপুত্র মেঘনাদ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে গেলে সেখানে বিভীষণ লক্ষ্মণকে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে। শুধু তাই নয়, মেঘনাদ যুদ্ধসাজ গ্রহণ করতে চাইলে বিভীষণ অস্ত্রাগারের দ্বার রুদ্ধ করে দাঁড়িয়ে থেকেছে। এভাবে দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার দিক থেকে উদ্দীপকের মিরজাফর ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার বিভীষণ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। |
ঘ) “উদ্দীপকের মূলভাব ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ”- উক্তিটি যথার্থ। আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে যারা দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। দেশের স্বার্থে তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও পিছপা হন না। আবার এমন কিছু মানুষও আছে যারা আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতেও দ্বিধা করে না। উদ্দীপকে দেশের সঙ্গে মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কথা প্রকাশ পেয়েছে। ১৭৫৭ সালে মিরজাফর হাজার হাজার সেনা নিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছে। তার এই বিশ্বাসঘাতকতার ফলে ব্রিটিশ সেনাদের কাছে বাংলার দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের মৃত্যু হয় এবং নবাব পরাজিত হন। ফলে স্বাধীনতার অবসান ঘটে। বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণও মিরজাফরের মতো একজন দেশদ্রোহী ও বিশ্বাসঘাতক। লঙ্কাপুরী শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে বিভীষণ স্বদেশ ও স্বজাতি ত্যাগ করে শত্রুপক্ষে কাজ করে। সে লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে নিয়ে যায়। তার এই বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়াও আলোচ্য কবিতায় মেঘনাদের স্বদেশপ্রেম, জ্ঞাতিত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ, বীরত্ব, সাহসিকতা, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা এসব বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকের মূলভাব মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা থাকলেও সেখানে জন্মভূমির প্রতি মেঘনাদের ভালোবাসা বড় হয়ে উঠেছে। স্বজাতির প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ, বীরত্ব ও সাহসকিতা প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ। |