সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কবি- পরিচিতি:
সাহিত্যকর্ম :
রবীন্দ্রনাথের বিশাল সৃষ্টিভার: কাব্যগ্রন্থ- ৫৬; গীতিপুস্তক-৪; ছোটগল্প-১১৯; উপন্যাস-১২; ভ্রমণকাহিনী-৯; নাটক-২৯; কাব্যনাট্য-১৯; চিঠিপত্রের বই-১৩; গানের সংখ্যা-২২৩২ এবং অঙ্কিত চিত্রাবলি প্রায় দুইহাজার।
কাব্যগ্রন্থ: বলাকা, মানসী, জন্মদিন, নবজাতক, বনফুল, চৈতালী, চিত্রানদী, খেয়াপার, মহুয়া, পুনশ্চ, সোনারতরী, শ্যামলী, প্রভাত সঙ্গীত, সন্ধ্যা সঙ্গীত, স্বর্গ, পূরবী, বিচিত্রাময়, পত্রপুট, ভানুসিংহ, কনিকা, রোগশয্যায়, আরোগ্য, শেষ-লেখা, সানাই, কল্পনা, কড়ি ও কোমল ও গীতাঞ্জলী।
❖ গল্পাকারে কাব্যগ্রন্থ মনে রাখার নিয়ম : মানসী তার বান্ধবীর মেয়ে বলাকার জন্মদিনে নবজাতকের জন্য বনফুল নিয়ে চৈতালী মাসে চিত্রানদীর খেয়াপার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এসে দেখে সোনারতরীতে বসে মহুয়া এবং পুনশ্চ শ্যামলীর জন্য অপেক্ষা করছে। মনের সুখে প্রভাত সংগীত সন্ধা সংগীত সানাই এর সাথে গান গাইছে। হঠাৎ তখন স্বর্গ থেকে পূরবী এসে বিচিত্রাময় পত্রপুট দিয়ে বলল, এটি ভানুসিংহের মেয়ে কণিকাকে উৎসর্গ করলাম। পরবর্তীতে কল্পনা নিজ হাতে কড়ি ও কোমল নিয়ে প্রান্তিকভাবে শেষের লেখা গীতাঞ্জলী পাঠ করে সেজুঁতির জন্য রোগশয্যার আরগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করেন।
উপন্যাস: করুণা (সামাজিক), বৌ ঠাকুরানীর হাট (ঐতিহাসিক), রাজর্ষি (ঐতিহাসিক), চোখের বালি (মনস্তাত্ত্বিক), নৌকাডুবি (সামাজিক), গোরা (রাজনৈতিক), ঘরে বাইরে (রাজনৈতিক), চার অধ্যায় (রাজনৈতিক), চতুরঙ্গ (রোমান্টিক), যোগাযোগ (সামাজিক), দুইবোন (রোমাণ্টিক), মালঞ্চ (রোমাণ্টিক)।
❖ গল্পাকারে উপন্যাস মনে রাখার নিয়ম : করুণা করে আমাকে বউ ঠাকুরানীর হাটে, পৌঁছে দিও, সেখানে হয়ত রাজর্ষি’কে খুঁজে পাবো। আগামী বছর তার সাথে আমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নৌকাডুবির ফলে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমি তার চোখের বালি। আমার দুইবোন এবং ভাই গৌরাকে খুঁজেছি পাইনি। অবশেষে জীবনের চার অধ্যায় পেরিয়ে চতুরঙ্গের কষাঘাতে মালঞ্চে বসে লেখি শেষের কবিতা।
নাট্যগ্রন্থ: ফাল্গুনী, বিসর্জন, গোড়ায় গলদ, রাজা (১৯১০), অচলায়তন (১৯১২), চিরকুমার, সভা, অরূপরতন, তাপসী, ডাকঘর (১৯১২), তাসের দেশ (১৯১৩), রক্তকরবী (১৯১৪), মুক্তধারা, মুকুট, কালের যাত্রা, গৃহ প্রবেশ, পরিত্রাণ, তপতী (১৯২৯), বাঁশরী (১৯৩৩)।
❖ গল্পাকারে নাট্যগ্রন্থ মনে রাখার নিয়ম: রক্তকরবী বাঁশরী হতে তাসের ঘর থেকে বেরিয়ে সভা ডাকল চিরকুমার মুক্তধারা গ্রামের ডাকঘরে। সভায় রাজা তাঁর অচলায়তনের বন্ধু তপতী ও মালিনীকে নিয়ে হাজির হলে চিরকুমারের মন ভেঙ্গে যায়। রাজা বলল, আমি অপরূপরতন গোড়ায় গলদ থাকার কারণে চিরকুমারের মুকুট পরিত্রাণ করে কালের যাত্রায় যায়। সেখানে চিত্রাঙ্গদাকে বিয়ে করি। একথা শুনে সভার একমাত্র চাকরাণী ফাল্গুনী রাজার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিল।
ছোটগল্প: তিন সঙ্গী ( ১৯৪১), আড্ডা, গল্পসল্প (১৯৪১), গল্পগুচ্ছ।
❖ গল্পাকারে ছোটগল্প মনে রাখার নিয়ম : রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছের চারটি খণ্ড থেকে ছোট গল্পসল্প নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে তিন সঙ্গী।
জীবন কথা: পথের সঞ্চয়, জীবন স্মৃতি, ছেলেবেলা।
❖ গল্পাকারে জীবন কথা মনে রাখার নিয়ম : ছেলেবেলার স্মৃতি পথ চলতে মনে পড়ে যায়।
ভ্রমণ কাহিনি : জাপানযাত্রী, পথের সঞ্চয়, পারস্য, রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপযাত্রীর ডায়েরী, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র প্রভৃতি।
❖ গল্পাকারে ভ্রমণ কাহিনি মনে রাখার নিয়ম : জাপানের যাত্রীরা রাশিয়ার চিঠি পড়ে ইউরোপ সম্পর্কে জানতে পারল।
নোবেল পুরস্কার লাভ : ১৯১৩ সালে। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ ‘song offerings’ নামে।
নাইট উপাধি লাভ : ১৯১৫ সালে।
নাইট উপাধি ত্যাগ : ১৯১৯ সালে। ইংরেজ কর্তৃক পাঞ্জাবের অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে।
মৃত্যু : ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসের ৭ তারিখে (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ।
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। 🔒ব্যাখ্যা
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হলো সারা, 🔒ব্যাখ্যা
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা -🔒ব্যাখ্যা
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।। 🔒ব্যাখ্যা
একখানি ছোট ক্ষেত, আমি একেলা -🔒ব্যাখ্যা
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।। 🔒ব্যাখ্যা
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসী-মাখা 🔒ব্যাখ্যা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা-🔒ব্যাখ্যা
এপারেতে ছোট ক্ষেত, আমি একেলা।। 🔒ব্যাখ্যা
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! 🔒ব্যাখ্যা
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা পালে চলে যায়,
কোন দিকে নাহি চায়, 🔒ব্যাখ্যা
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধারে- 🔒ব্যাখ্যা
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।। 🔒ব্যাখ্যা
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে? 🔒ব্যাখ্যা
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। 🔒ব্যাখ্যা
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও-
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে 🔒ব্যাখ্যা
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।।
যত চাও তত লও তরণী-পরে।
আর আছে—আর নাই, দিয়েছি ভরে।।
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে🔒ব্যাখ্যা
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে-
এখন আমারে লহো করুণা করে।। 🔒ব্যাখ্যা
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছােট সে তরী
আমারি সােনার ধানে গিয়েছে ভরি। 🔒ব্যাখ্যা
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে, 🔒ব্যাখ্যা
রহিনু পড়ি- 🔒ব্যাখ্যা 🔒ব্যাখ্যা
যাহা ছিল নিয়ে গেল সােনার তরী। 🔒ব্যাখ্যা
মূলভাব
১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ নাম কী? [য.বো.২৩]
২) ‘সোনার তরী’ কবিতার বর্ণনা মতে বর্ষা কখন এল? [সি.বো.২৩]
৩) ‘সোনার তরী’ কবিতায় কোন সময়ের কথা আছে? [ব.বো.১৭]
৪) ‘সোনার তরী’ কবিতায় বাংলা কোন মাসের উল্লেখ রয়েছে? [দি.বো.২৩]
৫) ‘ক্ষুরধারা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [চ.বো.২৩]
১) 'ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে?'- এখানে 'তুমি' কে?
২) কবি 'ছোটো খেত' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
৩) সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি অনন্য চিত্রশিল্পী হিসেবেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন কে?
৪) কত বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য প্রকাশিত হয়?
৫) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?