সোনার তরী

সোনার তরী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


কবি- পরিচিতি:

নাম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ছন্দনাম : ভানুসিংহ ঠাকুর। এ ছদ্মনামে তিনি ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ কাব্য রচনা করেন।
উপাধি : বিশ্বকবি।
জন্ম : ১৮৬১ সালের মে মাসের ৭ তারিখে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ)।
জন্মস্থান : জোড়াসাঁকো, কলকাতা, ভারত।
পিতা : মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ মাতা-পিতার চতুর্দশ সস্তান ও অষ্টম পুত্র।  রবীন্দ্রনাথের ভাই বোনের সংখ্যা ১৫ জন।
মাতা : সারদা দেবী।
পিতামহ : প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
মাতামহী :  দিগম্বরী দেবী।
শ্বশুর বাড়ী : খুলনা।
স্ত্রী : ভবতারিণী দেবী, পরিবর্তিত নাম মৃণালিনী দেবী।
শিক্ষাজীবন : রবীন্দ্রনাথ বাল্যকালে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমী, সেন্টজেভিয়ার্স স্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করলেও স্কুলের পাঠ শেষ করতে পারেন নি। ১৭ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ড গেলেও কোর্স সম্পন্ন করা সম্ভব হয় নি। তবে গৃহশিক্ষকের কাছে থেকে জ্ঞানার্জনের কোন ক্রটি হয় নি।
কর্মজীবন : ১৮৮৪ খ্রি. থেকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর পিতার আদেশে বিষয়কর্ম পরিদর্শনে নিযুক্ত হন এবং ১৮৯০ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি দেখাশোনা করেন। এ সূত্রে তিনি কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন।

সাহিত্যকর্ম :

রবীন্দ্রনাথের বিশাল সৃষ্টিভার: কাব্যগ্রন্থ- ৫৬; গীতিপুস্তক-৪; ছোটগল্প-১১৯; উপন্যাস-১২; ভ্রমণকাহিনী-৯; নাটক-২৯; কাব্যনাট্য-১৯; চিঠিপত্রের বই-১৩; গানের সংখ্যা-২২৩২ এবং অঙ্কিত চিত্রাবলি প্রায় দুইহাজার।

কাব্যগ্রন্থ: বলাকা, মানসী, জন্মদিন, নবজাতক, বনফুল, চৈতালী, চিত্রানদী, খেয়াপার, মহুয়া, পুনশ্চ, সোনারতরী, শ্যামলী, প্রভাত সঙ্গীত, সন্ধ্যা সঙ্গীত, স্বর্গ, পূরবী, বিচিত্রাময়, পত্রপুট, ভানুসিংহ, কনিকা, রোগশয্যায়, আরোগ্য, শেষ-লেখা, সানাই, কল্পনা, কড়ি ও কোমল ও গীতাঞ্জলী।

   ❖ গল্পাকারে কাব্যগ্রন্থ মনে রাখার নিয়ম : মানসী তার বান্ধবীর মেয়ে বলাকার জন্মদিনে নবজাতকের জন্য বনফুল নিয়ে চৈতালী মাসে চিত্রানদীর খেয়াপার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এসে দেখে সোনারতরীতে বসে মহুয়া এবং পুনশ্চ শ্যামলীর জন্য অপেক্ষা করছে। মনের সুখে প্রভাত সংগীত সন্ধা সংগীত সানাই এর সাথে গান গাইছে। হঠাৎ তখন স্বর্গ থেকে পূরবী এসে বিচিত্রাময় পত্রপুট দিয়ে বলল, এটি ভানুসিংহের মেয়ে কণিকাকে উৎসর্গ করলাম। পরবর্তীতে কল্পনা নিজ হাতে কড়ি ও কোমল নিয়ে প্রান্তিকভাবে শেষের লেখা গীতাঞ্জলী পাঠ করে সেজুঁতির জন্য রোগশয্যার আরগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করেন।

উপন্যাস: করুণা (সামাজিক), বৌ ঠাকুরানীর হাট (ঐতিহাসিক), রাজর্ষি (ঐতিহাসিক), চোখের বালি (মনস্তাত্ত্বিক), নৌকাডুবি (সামাজিক), গোরা (রাজনৈতিক), ঘরে বাইরে (রাজনৈতিক), চার অধ্যায় (রাজনৈতিক), চতুরঙ্গ (রোমান্টিক), যোগাযোগ (সামাজিক), দুইবোন (রোমাণ্টিক), মালঞ্চ (রোমাণ্টিক)।

   ❖ গল্পাকারে উপন্যাস মনে রাখার নিয়ম : করুণা করে আমাকে বউ ঠাকুরানীর হাটে, পৌঁছে দিও, সেখানে হয়ত রাজর্ষি’কে খুঁজে পাবো। আগামী বছর তার সাথে  আমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নৌকাডুবির ফলে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমি তার চোখের বালি। আমার দুইবোন এবং ভাই গৌরাকে খুঁজেছি  পাইনি। অবশেষে জীবনের চার অধ্যায় পেরিয়ে চতুরঙ্গের কষাঘাতে মালঞ্চে বসে লেখি শেষের কবিতা।

নাট্যগ্রন্থ: ফাল্গুনী, বিসর্জন, গোড়ায় গলদ, রাজা (১৯১০), অচলায়তন (১৯১২), চিরকুমার, সভা, অরূপরতন, তাপসী, ডাকঘর (১৯১২), তাসের দেশ (১৯১৩), রক্তকরবী (১৯১৪), মুক্তধারা, মুকুট, কালের যাত্রা, গৃহ প্রবেশ, পরিত্রাণ, তপতী (১৯২৯), বাঁশরী (১৯৩৩)।

   ❖ গল্পাকারে নাট্যগ্রন্থ মনে রাখার নিয়ম: রক্তকরবী বাঁশরী হতে তাসের ঘর থেকে বেরিয়ে সভা ডাকল চিরকুমার মুক্তধারা গ্রামের ডাকঘরে। সভায় রাজা তাঁর অচলায়তনের বন্ধু তপতী ও মালিনীকে নিয়ে হাজির হলে চিরকুমারের মন ভেঙ্গে যায়। রাজা বলল, আমি অপরূপরতন গোড়ায় গলদ থাকার কারণে চিরকুমারের মুকুট পরিত্রাণ করে কালের যাত্রায় যায়। সেখানে চিত্রাঙ্গদাকে বিয়ে করি। একথা শুনে সভার একমাত্র চাকরাণী ফাল্গুনী রাজার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিল।

ছোটগল্প: তিন সঙ্গী ( ১৯৪১), আড্ডা, গল্পসল্প (১৯৪১), গল্পগুচ্ছ।

   ❖ গল্পাকারে ছোটগল্প মনে রাখার নিয়ম : রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছের চারটি খণ্ড থেকে ছোট গল্পসল্প নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে তিন সঙ্গী।

জীবন কথা: পথের সঞ্চয়, জীবন স্মৃতি, ছেলেবেলা।

   ❖ গল্পাকারে জীবন কথা মনে রাখার নিয়ম :  ছেলেবেলার স্মৃতি পথ চলতে মনে পড়ে যায়।

ভ্রমণ কাহিনি : জাপানযাত্রী, পথের সঞ্চয়, পারস্য, রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপযাত্রীর ডায়েরী, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র প্রভৃতি।

   ❖ গল্পাকারে ভ্রমণ কাহিনি মনে রাখার নিয়ম : জাপানের যাত্রীরা রাশিয়ার চিঠি পড়ে ইউরোপ সম্পর্কে জানতে পারল।

রবীন্দ্রনাথে প্রথম রচনাসমূহ 
 প্রথম সম্পাদিত পত্রিকা : সাধনা (মাসিক, ১৮৯৪)।
 প্রথম কাব্য : বনফুল (প্রকাশিত ১৮৭৬)।
 প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : কবিকাহিনী (১৮৭৮)।
 প্রথম উপন্যাস : করুণা (১৮৭৭ ভারতীয় প্রত্রিকায় প্রকাশিত হয়)
 প্রথম সার্থক উপন্যাস : বৌ ঠাকুরানীর হাট (১৮৮৩)। 
 প্রথম কবিতা : হিন্দুমেলার উপহার।
 প্রথম ছোট গল্প: ভিখারিণী (১৮৮১)।প্রথম প্রকাশিত 
 নাটক : রুদ্রচণ্ড (১৮৮১)।

 নোবেল পুরস্কার লাভ : ১৯১৩ সালে। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের    ইংরেজি অনুবাদ ‘song offerings’ নামে।

 নাইট উপাধি লাভ : ১৯১৫ সালে।

 নাইট উপাধি ত্যাগ : ১৯১৯ সালে। ইংরেজ কর্তৃক পাঞ্জাবের অমৃতসরে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে।

মৃত্যু : ১৯৪১ সালের আগস্ট মাসের ৭ তারিখে (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ।

রবীন্দ্রনাথ উৎসর্গকৃত গ্রন্থ 
বসন্ত- নজরুলকে।
তাসেরদেশ- নেতাজী সুভাষ চন্দ্রবসুকে।
চার অধ্যায়- বৃটিশ সরকারের রাজবন্দীকে।
কালের যাত্রা- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
উৎস পরিচিতি 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতাটি ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থর নাম কবিতা। ‘সোনার তরী’ কবিতাটি ‘সাধনা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি ফাল্গুন ১২৯৮ বঙ্গাব্দে (শিলাইদহ) রচিত হয়।
গঠনাঙ্গিক
‘সোনার তরী’ কবিতাটি ৮ মাত্রার মাত্রাবৃত্তে ছন্দে রচিত। এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮ + ৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত। পূর্ণ পর্ব ৮ মাত্রার, অপূর্ণ পর্ব ৫ মাত্রার। আপাতভাবে কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত বলে মনে হয়। কিন্তু সর্বশেষ স্তবকে ‘শূন্য’ শব্দটি আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের কবিতা। ‘শূন্য’ মাত্রাবৃত্তে ৩ মাত্রা। সে হিসেবে ‘শূন্য নদীর তীরে’ ৮ মাত্রার পর্ব; অক্ষরবৃত্ত ছন্দ হলে ১ মাত্রা কম পড়ত।
প্রথম ও শেষ চরণ
প্রথম চরণ - গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
শেষ চরণ - যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।

কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। 🔒ব্যাখ্যা

রাশি রাশি ভারা ভারা

ধান কাটা হলো সারা, 🔒ব্যাখ্যা

ভরা নদী ক্ষুরধারা

খরপরশা -🔒ব্যাখ্যা

কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।। 🔒ব্যাখ্যা


একখানি ছোট ক্ষেতআমি একেলা -🔒ব্যাখ্যা

চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।। 🔒ব্যাখ্যা

পরপারে দেখি আঁকা

তরুছায়ামসী-মাখা  🔒ব্যাখ্যা

গ্রামখানি মেঘে ঢাকা

প্রভাতবেলা-🔒ব্যাখ্যা

এপারেতে ছোট ক্ষেত, আমি একেলা।। 🔒ব্যাখ্যা


গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে🔒ব্যাখ্যা

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

ভরা পালে চলে যায়,

কোন দিকে নাহি চায়🔒ব্যাখ্যা

ঢেউগুলি নিরুপায়

ভাঙে দু ধারে- 🔒ব্যাখ্যা

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।। 🔒ব্যাখ্যা


ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে🔒ব্যাখ্যা

বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। 🔒ব্যাখ্যা

যেয়ো যেথা যেতে চাও,

যারে খুশি তারে দাও-

শুধু তুমি নিয়ে যাও

ক্ষণিক হেসে 🔒ব্যাখ্যা

আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।।


যত চাও তত লও তরণী-পরে।

আর আছে—আর নাই, দিয়েছি ভরে।।

এতকাল নদীকূলে

যাহা লয়ে ছিনু ভুলে🔒ব্যাখ্যা

সকলি দিলাম তুলে

থরে বিথরে-

এখন আমারে লহো করুণা করে।। 🔒ব্যাখ্যা


ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই! ছােট সে তরী

আমারি সােনার ধানে গিয়েছে ভরি। 🔒ব্যাখ্যা

শ্রাবণগগন ঘিরে

ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে, 🔒ব্যাখ্যা

শূন্য নদীর তীরে

রহিনু পড়ি- 🔒ব্যাখ্যা 🔒ব্যাখ্যা

যাহা ছিল নিয়ে গেল সােনার তরী।  🔒ব্যাখ্যা


মূলভাব

সোনার তরী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিত। শতাধিক বছর ধরে এ কবিতা বিপুল আলোচনা ও নানামুখী ব্যাখ্যায় নতুন নতুন তাৎপর্যে অভিষিক্ত। একইসঙ্গে কবিতাটি গূঢ় রহস্য ও শ্রেষ্ঠত্বেরও স্মারক।মহৎ সাহিত্যের একটি বিশেষ গুণ হলো কালে কালে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেচনার আলোকে তার শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হয়ে থাকে। বাংলা কবিতার ইতিহাসে ‘সোনার তরী' তেমনি আশ্চর্যসুন্দর এক চিরায়ত আবেদনবাহী কবিতা।

কবিতাটিতে দেখা যায়, চারপাশের প্রবল স্রােতের মধ্যে জেগে থাকা দ্বীপের মতো ছোটো একটি ধানখেতে উৎপন্ন সোনার ধানের সম্ভার নিয়ে অপেক্ষারত নিঃসঙ্গ এক কৃষক। আকাশের ঘন মেঘ আর ভারী বর্ষণে পাশের খরস্রােতা নদী হয়ে উঠেছে হিংস্র। চারদিকের ‘বাঁকা জল' কৃষকের মনে সৃষ্টি করেছে ঘনঘোর আশঙ্কা। এরকম এক পরিস্থিতিতে ওই খরস্রােতা নদীতে একটি পাল তোলা সোনার নৌকা নিয়ে বেয়ে আসা এক মাঝিকে দেখা যায়। উৎকণ্ঠিত কৃষক নৌকা কূলে ভিড়িয়ে তার উৎপাদিত সোনার ধান নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝিকে সকাতরে মিনতি জানালে ওই সোনার ধানের সম্ভার নৌকায় তুলে নিয়ে মাঝি চলে যায়। নৌকায় স্থান সংকুলান হয় না কৃষকের । শূন্য নদীর তীরে আশাহত কৃষকের বেদনা গুমরে মরে।

এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির গভীর জীবনদর্শন। মহাকালের স্রােতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষের সৃজনশীল কর্মসম্ভার । তার ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার।

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম 'বিশ্বভারতী' ।

উত্তর : চারিদিকে বাঁকা জল খেলা করছে।

উত্তর : সোনার তরী কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

উত্তর : 'সোনার তরী' কবিতায় শ্রাবণ মাসের উল্লেখ রয়েছে।

উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘বনফুল’।



উত্তর : ৭ ই মে

উত্তর : ভানুসিংহ ঠাকুর। 

উত্তর : মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উত্তর : সারদা দেবী।

উত্তর : গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য।


উত্তর : প্রশ্নোক্ত পঙ্‌ক্তিটি দ্বারা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কৃষকের মানসিক উৎকণ্ঠার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।

কৃষক ছোটো একটি খেতে ধান কাটছে। চারিদিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মেঘ গর্জন করছে, ঘন বর্ষার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক একা কূলে বসে মনে এই ভয় নিয়ে আছেন, বৃষ্টিতে তার কাটা ধান ভিজে যাবে, সেই ভয়ের অনুভূতি থেকেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে। 


উত্তর : প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা রুপকের আড়ালে কবি মহাকালে সৃষ্টিকর্ম দান করে নিজের সর্বশূন্যতার অনুভূতিটি প্রকাশ করেছেন। 

একজন শিল্পী তাঁর সারাজীবন ধরে সৃষ্টি করা সম্পদ বা শিল্পকর্মগুলো মহাকালের জন্য রেখে যান। এর সোনার তরী নামক  মহাকালে সৃষ্টিকর্মের জায়গা হলেও শিল্পীর স্থান হয় না। ফলে ব্যাক্তি শিল্পী হয়ে পড়েন শূন্য। প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা কবি রূপকের আড়ালে নিজের ব্যক্তি জীবনের এই শূন্যতার অনুভূতিটিই প্রকাশ করতে চেয়েছেন।


উত্তর : প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি দ্বারা কৃষকের ফসলরূপী কর্মফল সোনার তরীরূপী মহাকালে পূর্ণ করে দেওয়ার পর সেখানে তাঁর স্থান না হওয়ার বেদনাবোধ প্রকাশিত হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবির উপলব্ধিগত এক গভীর জীবনদর্শকে তুলে ধরেছেন। মহাকাল কৃষকের কর্মফলের প্রতীক সোনার ধানকে গ্রহণ করলেও তাকে গ্রহণ করে না। তখন কৃষকরূপী কবি অবাক হয়ে লক্ষ করেন, তাঁর ফসল তথা কর্মফলই মাঝির নৌকা ভরে গিয়েছে। অর্থাৎ মহাকালের পঙ্‌ক্তিতে কর্মফল স্থান পেলেও ব্যক্তিকবির সেখানে জায়গা হয় না।

উত্তর : "চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা" বলতে কবির ছোট খেতের চারপাশে নদীর জলস্রোতের উদ্দামতাকে বুঝিয়েছেন।

চারিদিকে জলবেষ্টিত ধানখেতটি দ্বীপের ন্যায়। দ্বীপের চারপাশে নদীর খরস্রোত প্রহাবিত। বাঁকা জলের মাধ্যমে তিনি স্রোতের তীব্রতাকে দেখিয়েছেন। স্রোতের তীব্রতায় ছোট খেতটুকুর বিলীন হওয়ার সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। বস্তুত এখানে নদীর বাঁকা জলস্রোতে পরিবেষ্টিত ছোট জমিটুকুর সংকটময় অবস্থার কথাই কবি এখানে বলতে চেয়েছেন।


উত্তর : “ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, ছোট সে তরী” বলতে মহাকালরূপী ছোট সোনার তরণিতে সোনার ফসলরূপী মহৎ সৃষ্টিকর্মের স্থান হওয়া এবং ব্যক্তিসত্তার স্থান বা ঠাঁই না হওয়া বোঝানো হয়েছে। 

‘সোনার তরী’ কবিতায় একজন কৃষকের রূপকে কবি নিজের জীবনের চিত্র এঁকেছেন। একজন কৃষক তার অক্লান্ত শ্রমের ফসল রাশি রাশি সোনার ধান কেটে নানা আশঙ্কা নিয়ে বর্ষার জলবেষ্টিত ছোট খেতে একাকী অপেক্ষা করেছে। এমন সময় অপ্রত্যাশিতভাবে ভরা পারে তরি বেয়ে আসা এক মাঝি তাকে উপেক্ষা করে নির্বিকারভাবে অজানা দেশের দিকে চলে যেতে থাকে। তখন কৃষক তাকে কাতরভাবে অনুরোধ করে বলে সে যেন কূলে তরি ভিড়িয়ে তার সোনার ধানটুকু নিয়ে যায়। অথচ ছোট সেই তরিতে কৃষকের স্থান সংকুলান হয় না।



উত্তর : একজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সোনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে।‘সোনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে। কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতো ধারালো বর্ষার স্রোতের বিপরীতে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ,আশেপাশে কোনো জনমানবের দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে।এমন পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও আশঙ্কিত অবস্থাকে বোঝাতে ‘কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন।

উত্তর : ‘ধান কাটা হলো সারা’ বলতে পৃথিবীতে কৃষকরূপী কবির সমস্ত কর্ম সম্পাদিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। ‘সোনার তরী’ কবিতার প্রতিটি অনুষঙ্গই বিশিষ্ট অর্থবাহী। কবিতাটিতে কৃষক ব্যক্তিমানবের প্রতীক আর উৎপাদিত ধান হলো মানুষের কর্ম। সংগত কারণেই ধান কাটা সারা হওয়া মানে কাজের সমাপ্তি। অর্থাৎ কবিতাটিতে ‘ধান কাটা হলো সারা’ বলতে  পৃথিবীতে ব্যক্তিমানুষের সম্পাদিত কাজের পরিসমাপ্তিকেই বোঝানো হয়েছে।

উত্তর : ‘ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা’ লাইনটি দিয়ে কবি বর্ষায় নদীতে ক্ষুরের মতো ধারালো স্রোত বয়ে চলাকে বুঝিয়েছেন। প্রবল বর্ষায় নদীতে প্রবল গতিতে স্রোত প্রবাহিত হয়। সেই প্রবাহ ক্ষুরের মতো তীক্ষ্ণ এবং শাণিত বর্শার মতো ধারালো। আলোচ্য কবিতায় এরকমই এক দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে রাশি রাশি ধান কেটে এক কৃষক একাকী অপেক্ষা করছেন। মানুষ মাত্রই যে মহাকালের করাল গ্রাসে পতিত হবে তা চিরন্তন। মানুষ জানে, তার মৃত্যুর পর কেউ তাকে মনে রাখবে না; কেবল তার সৃষ্ট কর্মকেই মনে রাখবে। এসবকিছু  সত্ত্বেও মানুষ বিপদ পেরিয়ে  সোনার জীবন গড়ার প্রত্যাশা করে।  জীবনের এই চরম সত্যটি বোঝাতেই ‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি প্রশ্নোক্ত লাইনটির অবতারণা করেছেন।

উত্তর : “কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা”- পঙক্তিটি দ্বারা আপাতদৃষ্টিতে বর্ষার আগমনকে বোঝালেও তাৎপর্যের দিক থেকে আসন্ন মৃত্যুকে নির্দেশ করা হয়েছে। মানুষের জীবন নিয়ত প্রবহমান এবং এ প্রবাহ একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে থেমে যায়। ধান কাটতে কাটতে যেমন বর্ষা আসে, তেমনি জীবন প্রবাহিত হতে হতে এক সময় মৃত্যু আসে। বর্ষার আগমন যেমন পরিবেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মৃত্যুর আগমনও তেমনি ইন্দ্রিয় শক্তি দ্বারা ব্যক্তিমানসে প্রকট হয়ে ওঠে। আলোচ্য পঙক্তিটি দ্বারা বস্তুত এটাই বোঝানো হয়েছে। 

উত্তর : ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষকের উক্তি ‘আমি একেলা'-র মাধ্যমে কৃষকের নিঃসঙ্গ অবস্থার  আড়ালে কবি মূলত নিজের নিঃসঙ্গ অবস্থাকে বুঝিয়েছেন। ‘সোনার তরী’ কবিতায় কৃষক নদীর পাড়ের খেতটিতে ধান কাটা শেষে একা অপেক্ষমাণ। তার এ অবস্থা বোঝাতে কবি ‘আমি একেলা’  শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। এখানে কৃষকের আড়ালে কবির সমস্ত জীবনের সৃষ্টকর্ম নিয়ে  জীবনবেলার শেষপ্রান্তে তাঁর একাকী অপেক্ষারত  অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। আমৃত্যু মহৎ সৃষ্টি নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আজ সব সৃষ্টকর্মকে পৃথিবীতে রেখে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য একা অপেক্ষা করছেন কবি।


Score Board

১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ নাম কী? [য.বো.২৩]

২) ‘সোনার তরী’ কবিতার বর্ণনা মতে বর্ষা কখন এল? [সি.বো.২৩]

৩) ‘সোনার তরী’ কবিতায় কোন সময়ের কথা আছে? [ব.বো.১৭]

৪) ‘সোনার তরী’ কবিতায় বাংলা কোন মাসের উল্লেখ রয়েছে? [দি.বো.২৩]

৫) ‘ক্ষুরধারা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? [চ.বো.২৩]


Score Board

১) 'ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে?'- এখানে 'তুমি' কে?

২) কবি 'ছোটো খেত' বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন?

৩) সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি অনন্য চিত্রশিল্পী হিসেবেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন কে?

৪) কত বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য প্রকাশিত হয়?

৫) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

Score Board