ঋতু বর্ণন

ঋতু বর্ণন

আলাওল


প্রথমে বসন্ত ঋতু নবীন পল্লব। 🔒ব্যাখ্যা

দুই পক্ষ আগে পাছে মধ্যে সুমাধব ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি। 🔒ব্যাখ্যা

মুকুলিত কৈল তবে বৃক্ষ বনস্পতি ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

কুসুমিত কিংশুক সঘন বন লাল।

পুষ্পিত সুরঙ্গ মল্লি লবঙ্গ গুলাল

ভ্রমরের ঝঙ্কার কোকিল কলরব।

শুনিতে যুবক মনে জাগে অনুভব ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

নানা পুষ্প মালা গলে বড় হরষিত। 🔒ব্যাখ্যা

বিচিত্র বসন অঙ্গে চন্দন চৰ্চিত ৷৷


নিদাঘ সমএ অতি প্রচণ্ড তপন। 🔒ব্যাখ্যা

রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

চন্দন চম্পক মাল্য মলয়া পবন।

সতত দম্পতি সঙ্গে ব্যাপিত মদন ৷৷


পাবন সময় ঘন ঘন গরজিত। 🔒ব্যাখ্যা

নির্ভয়ে বরিষে জল চৌদিকে পূরিত৷ 🔒ব্যাখ্যা

ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ। 🔒ব্যাখ্যা


দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

কীটকুল রব পুনি ঝঙ্কারে ঝঙ্কারে । 

যুবক চিত্ত হরষিত ডরে ৷৷

শুনিতে আইল শারদ ঋতু নির্মল আকাশে। 🔒ব্যাখ্যা

দোলাএ চামর কেশ কুসুম বিকাশে ৷৷

নবীন খঞ্জন দেখি বড়হি কৌতুক । 

উপজিত যামিনী দম্পতি মনে সুখ ৷ 

প্রবেশে হেমন্ত ঋতু শীত অতি যায় । 

পুষ্প তুল্য তাম্বুল অধিক সুখ হয় ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ। 🔒ব্যাখ্যা

অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে পোহাএ ৷৷ 🔒ব্যাখ্যা

পুষ্প শয্যা ভেদ ভুলি বিচিত্র বসন। 🔒ব্যাখ্যা

উরে উরে এক হৈলে শীত নিবারণ ॥ 

কাফুর কস্তুরী চুয়া যাবক সৌরভ। 🔒ব্যাখ্যা

দম্পতির চিত্তেত চেতন অনুভব ৷৷

   

উত্তর : আলাওল।

উত্তর : আলাওল।

উত্তর : ফতেহবাদ পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর) জেলায় জন্মগ্রণ করেন।

উত্তর : ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে।

উত্তর : পর্তুগিজ জলদস্যুদের।

উত্তর : প্রশ্নোক্ত চরণদ্বয়ের মাধ্যমে শীত ও গ্রীষ্ম ঋতুর মাঝে বসন্তকালের অবস্থানকে বোঝানো হয়েছে এবং বসন্তকালকে উত্তম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার প্রথম চরণটিতে গাছে গাছে নতুন পাতা নিয়ে বসন্ত ঋতুর আগমনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেইসাথে দ্বিতীয় চরণে বসন্তের আগে শীতকাল এবং বসন্তের পরে গ্রীষ্মকালের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কবি বসন্তকে ‘সুমাধব’ তথা উত্তম বলে অভিহিত করেছেন।

উত্তর : ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় নবীন পল্লব বসন্তকালের আগমনের ইঙ্গিত বহন করে।
বসন্তকালে গাছে গাছে নতুন পাতা জন্মায়, সবুজে ছেয়ে যায় প্রকৃতি। শীতে পাতা ঝরে যাওয়া গাছগুলো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। নবীন পল্লবের মাধ্যমে প্রাণবন্ত প্রকৃতি যেন এ সময় নবরূপ ধারণ করে।

উত্তর : ‘মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি।‘- চরণটির মাধ্যমে কবি দখিনা ¯স্নিগ্ধ বাতাসকে প্রেমের দেবতার সংবাদ বাহক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় মূলত প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সাথে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। আলোচ্য চরণটিতে বসন্তকালে মানুষের মনে প্রেমের আগমন ঘটার বিষয়টিকে কবি শৈল্পিকভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে বসন্তের দখিনা হাওয়া যেন মানুষের কাছে প্রেমের বার্তা বহন করে নিয়ে আসে।

উত্তর : বৃক্ষ বনস্পতিকে মুকুলিত করার মধ্য দিয়ে বসন্তকাল যে পৃথিবীকে পুষ্পিত ও সুশোভিত করে তোলে, সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
প্রকৃতিতে বসন্ত ঋতু এলে গাছে গাছে মুকুল আসে। বনস্পতি হলো সেসব গাছ যেগুলোতে শুধু ফল হয়, কিন্তু ফুল হয় না। বনস্পতি বৃক্ষে মুকুলের আগমন যেন বসন্তকালে প্রকৃতিতে প্রাণের বিস্তারের দিকটিকেই নির্দেশ করে।

উত্তর : কবি প্রশ্নোক্ত চরণটিতে পলাশ ফুলে ফুলে বন লাল হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।
বসন্ত ঋতুতে চারদিক নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। পূর্বের রূঢ়তা, রুক্ষতা মুছে ফেলে প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। তখন গাছে গাছে নতুন নতুন পাতা দেখা যায়। প্রকৃতি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বসন্তের নানা দিক উঠে এসেছে। বসন্ত মানেই প্রকৃতিতে নানা রং, নানা ফুল ও পাখির ছড়াছড়ি। এ সময় ভ্রমরের গুঞ্জন এবং কোকিলের কলরবে চারদিকে মুখরিত হয়ে ওঠে। পলাশ ফুলে ফুলে ঘন বন যেন লাল হয়ে ওঠে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবি এ বিষয়টিই বুঝিয়েছেন।

Score Board

























কবিতাংশে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বসন্ত ঋতুর কোন দিকটি উন্মোচিত হয়েছে?


































Score Board